প্লুটোরও ওপারে নতুন বামন গ্রহের সন্ধান! সৌরজগতের ষষ্ঠ সদস্য কি 2026 ED138?
সৌরজগতের পরিচিত গ্রহগুলোর বাইরে আরও একটি বিশাল জগৎ অপেক্ষা করছে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বারবার ফিরে তাকিয়েছেন নেপচুনের কক্ষপথের ওপারে। সূর্য থেকে বহু দূরে অবস্থিত এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলে রয়েছে অসংখ্য বরফাচ্ছাদিত মহাজাগতিক বস্তু। এদের মধ্যে কিছু এতটাই বড় যে নিজেদের মহাকর্ষীয় আকর্ষণে প্রায় গোলাকার আকৃতি ধারণ করেছে। প্লুটোসহ কয়েকটি পরিচিত বামন গ্রহের সন্ধান মিললেও এই দূরবর্তী অঞ্চল সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান এখনও অসম্পূর্ণ। ফলে সেখানে নতুন কোনো বড় মহাজাগতিক বস্তুর সন্ধান পাওয়া মানে সৌরজগতের পরিচিত মানচিত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।
২০২৬ সালের ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে Scientific American জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের Vera C. Rubin Observatory-র পর্যবেক্ষণ থেকে 2026 ED138 নামে একটি নতুন মহাজাগতিক বস্তুর সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বস্তুটির আকার যথেষ্ট বড় বলে মনে হচ্ছে। এটি সূর্য থেকে প্লুটোর চেয়েও বেশি দূরে অবস্থিত এবং নেপচুনের কক্ষপথের বাইরের অঞ্চলের অন্তর্গত। বিজ্ঞানীরা আপাতত একে বামন গ্রহের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তবে এটি সত্যিই বামন গ্রহ কি না, সেই সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর জন্য এখনও প্রয়োজন আরও পর্যবেক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক যাচাই।

এই আবিষ্কারের বিশেষত্ব শুধু নতুন একটি মহাজাগতিক বস্তুর সন্ধান পাওয়া নয়। আরও আকর্ষণীয় বিষয় হলো, এত বড় একটি বস্তু এত বছর ধরে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণের আড়ালে থেকে গিয়েছিল। সৌরজগতের দূরবর্তী অঞ্চলে এমন কোনো বস্তু লুকিয়ে থাকতে পারে, যার অস্তিত্ব সম্পর্কে আমাদের কাছে আগে পর্যাপ্ত তথ্য ছিল না—এই আবিষ্কার সেই সম্ভাবনাকে নতুন করে সামনে এনেছে। আর এই অনুসন্ধানের কেন্দ্রে রয়েছে এমন একটি মানমন্দির, যার পর্যবেক্ষণক্ষমতা আগামী এক দশকে সৌরজগতের বহু অজানা বস্তুকে শনাক্ত করার সুযোগ তৈরি করবে।
নতুন আবিষ্কৃত বস্তুটির নাম 2026 ED138। এটি আপাতত একটি অস্থায়ী পরিচিতি বা provisional designation। অর্থাৎ বস্তুটির জন্য এখনও কোনো স্থায়ী আনুষ্ঠানিক নাম নির্ধারণ করা হয়নি। জ্যোতির্বিজ্ঞানে নতুন কোনো মহাজাগতিক বস্তু শনাক্ত হওয়ার পর তার অবস্থান, কক্ষপথ এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য সংগ্রহ করা প্রয়োজন। সেই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই বস্তুটির পরিচয় ও শ্রেণিবিন্যাস আরও নির্দিষ্ট হয়। 2026 ED138-এর ক্ষেত্রেও সেই প্রক্রিয়া চলছে। বিজ্ঞানীরা একে এখনই নিশ্চিতভাবে বামন গ্রহের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করছেন না; বরং সম্ভাব্য বামন গ্রহ হিসেবেই বিবেচনা করছেন।
এই আবিষ্কারের পেছনে রয়েছে বিপুল পরিমাণ পর্যবেক্ষণ-তথ্য বিশ্লেষণের কাজ। Harvard & Smithsonian-এর Center for Astrophysics-এর জ্যোতির্বিজ্ঞানী Matthew Holman এবং Kevin Napier একটি বিশেষ অনুসন্ধানমূলক কম্পিউটার কোড তৈরি করেছিলেন। Vera C. Rubin Observatory থেকে সংগৃহীত বিপুল তথ্যের মধ্যে নতুন মহাজাগতিক বস্তুর উপস্থিতি খুঁজে বের করাই ছিল এই কোডের উদ্দেশ্য। কোটি কোটি তথ্যের ভিড়ে একটি নির্দিষ্ট বস্তুর অবস্থান ও গতির সঙ্গে সম্পর্কিত পর্যবেক্ষণ শনাক্ত করা সাধারণ অনুসন্ধানের কাজ নয়। বিশেষত দূরবর্তী বস্তুর ক্ষেত্রে একই জায়গায় বারবার পর্যবেক্ষণ পাওয়া এবং সেগুলোর মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
Holman-এর কাছে প্রথম পর্যবেক্ষণে বিষয়টি এতটাই অপ্রত্যাশিত ছিল যে তিনি প্রথমে নিজের বিস্ময় ও সংশয়ের কথা জানিয়েছেন। তাঁর প্রতিক্রিয়ার বৈজ্ঞানিক তাৎপর্য রয়েছে। মহাকাশের দূরবর্তী অঞ্চলে এমন বড় বস্তু খুব বেশি দেখা যায় না। তাই কোনো অস্বাভাবিক ফলাফল পাওয়া গেলে সেটিকে সরাসরি আবিষ্কার বলে মেনে নেওয়ার পরিবর্তে তথ্যের নির্ভুলতা এবং বিশ্লেষণ-পদ্ধতি পরীক্ষা করা জরুরি। Holman এবং তাঁর সহযোগীরা ঠিক সেই পথেই এগিয়েছিলেন। তাঁরা প্রথমে অনুসন্ধান কোডের ফলাফল পুনরায় যাচাই করেন, যাতে কোনো গণনাগত ভুল বা ভুল শনাক্তকরণের কারণে এই ফলাফল তৈরি হয়নি, তা নিশ্চিত হওয়া যায়।
এরপর গবেষণায় যুক্ত হন University of Washington-এর Mario Jurić। Rubin Observatory-র তথ্য পুনরায় পরীক্ষা করতে গিয়ে তাঁরা ২০২৬ সালের মার্চ থেকে জুলাইয়ের মধ্যে বস্তুটির আরও ৩০টি পর্যবেক্ষণ খুঁজে পান। এই পর্যবেক্ষণগুলো নতুন বস্তুটির অস্তিত্ব সম্পর্কে আরও নির্ভরযোগ্য ধারণা তৈরি করতে সাহায্য করে। কিন্তু অনুসন্ধান সেখানেই থেমে থাকেনি। অন্য পর্যবেক্ষণ-ব্যবস্থার তথ্য পরীক্ষা করে তাঁরা ২০১৬ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে যাওয়া আরও কিছু পর্যবেক্ষণের সন্ধান পান। অর্থাৎ 2026 ED138-এর উপস্থিতির চিহ্ন নতুন নয়; আগের বছরগুলোতেও বস্তুটি পর্যবেক্ষিত হয়েছিল, কিন্তু সেই তথ্যগুলোকে একত্র করে তার পরিচয় নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বোঝা প্রয়োজন। দূরবর্তী কোনো মহাজাগতিক বস্তুকে একবার আকাশে দেখা গেলেই তার কক্ষপথ নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা যায় না। বস্তুটি কোন দিকে যাচ্ছে, কত দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন করছে এবং সূর্যের চারদিকে তার গতিপথ কেমন—এসব জানতে বিভিন্ন সময়ে পাওয়া পর্যবেক্ষণকে একত্রে বিশ্লেষণ করতে হয়। বিষয়টি অনেকটা চলন্ত কোনো গাড়িকে রাস্তার কয়েকটি আলাদা জায়গায় দেখে তার সম্ভাব্য গতিপথ নির্ণয় করার মতো। একটি পর্যবেক্ষণ শুধু নির্দিষ্ট মুহূর্তে অবস্থান জানায়, কিন্তু দীর্ঘ সময়ের পর্যবেক্ষণ সেই বস্তুর চলাচলের ধরন বুঝতে সাহায্য করে। ২০১৬ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য 2026 ED138-এর কক্ষপথ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা তৈরির ক্ষেত্রে তাই বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বস্তুটি সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্বের প্রায় ৪৬ গুণ দূরে অবস্থিত। পৃথিবী থেকে সূর্যের গড় দূরত্বকে জ্যোতির্বিজ্ঞানে এক অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট বা AU বলা হয়। সেই হিসাবে 2026 ED138-এর সূর্য থেকে দূরত্ব প্রায় ৪৬ AU। তুলনায় প্লুটো সূর্য থেকে গড়ে প্রায় ৪০ AU দূরত্বে অবস্থিত। অর্থাৎ নতুন বস্তুটি প্লুটোর থেকেও দূরের অঞ্চলে রয়েছে। এত দূরে অবস্থিত হওয়ার কারণে বস্তুটি থেকে প্রতিফলিত সূর্যের আলো পৃথিবীতে পৌঁছতে অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে এমন বস্তুর পর্যবেক্ষণ ও বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ স্বাভাবিকভাবেই কঠিন।
2026 ED138-এর কক্ষপথের আর একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো, এটি সৌরজগতের প্রধান সমতল থেকে প্রায় ২৫ ডিগ্রি হেলে রয়েছে। সৌরজগতের অধিকাংশ গ্রহ সূর্যের চারদিকে প্রায় একই সমতলে প্রদক্ষিণ করে। এই সামগ্রিক সমতলকে বোঝার জন্য একটি সমতল ডিস্কের কথা কল্পনা করা যায়, যার মধ্যে অধিকাংশ গ্রহের কক্ষপথ অবস্থান করছে। কিন্তু 2026 ED138-এর কক্ষপথ সেই পরিচিত সমতল থেকে যথেষ্ট ঝুঁকে রয়েছে। গবেষকদের ধারণা, নেপচুনের মহাকর্ষীয় প্রভাব এই ধরনের কক্ষপথগত বিন্যাসের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে এই ব্যাখ্যাকে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। বস্তুটির কক্ষপথ সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহের পরই এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব হবে।
বস্তুটির সম্ভাব্য আকারও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। প্রাথমিক পরিমাপ অনুযায়ী, এর ব্যাস ৬০০ থেকে ১,৫০০ কিলোমিটারের মধ্যে। অর্থাৎ এটি কয়েকশো কিলোমিটার বিস্তৃত একটি বড় মহাজাগতিক বস্তু। এই পরিসর একে এখনও পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া বৃহত্তম বামন গ্রহের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে স্থান দিয়েছে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক পার্থক্য রয়েছে। কোনো মহাজাগতিক বস্তু বড় হলেই তাকে বামন গ্রহ বলা যায় না। তার নিজস্ব মহাকর্ষীয় আকর্ষণ এতটা শক্তিশালী হতে হবে, যাতে বস্তুটি নিজের ভরকে কেন্দ্র করে প্রায় গোলাকার আকৃতি ধারণ করতে পারে। এই বৈশিষ্ট্যই বামন গ্রহ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। 2026 ED138-এর ক্ষেত্রে সেই শর্ত পূরণ হয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
তাহলে এত বড় একটি বস্তু এতদিন বিজ্ঞানীদের নজর এড়িয়ে গেল কেন? এর উত্তর লুকিয়ে রয়েছে বস্তুটির অবস্থান এবং পটভূমির আকাশে। 2026 ED138 এমন একটি অঞ্চলে রয়েছে, যেখানে রাতের আকাশে অসংখ্য নক্ষত্রের আলো ছড়িয়ে থাকে। দূরবর্তী ছোট বা তুলনামূলক ক্ষীণ কোনো মহাজাগতিক বস্তু যখন উজ্জ্বল নক্ষত্রের ভিড়ে অবস্থান করে, তখন তার নিজস্ব আলোর উপস্থিতি আলাদা করে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেকটা উজ্জ্বল আলোর মধ্যে অপেক্ষাকৃত মৃদু আলোর উৎসকে আলাদা করে চেনার সমস্যার মতো। বস্তুটি আকাশে উপস্থিত থাকলেও তার সংকেত নক্ষত্রের আলোয় ঢাকা পড়ে যেতে পারে। 2026 ED138-এর ক্ষেত্রেও এই পরিস্থিতি তার দীর্ঘদিন অশনাক্ত থাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

এই জায়গাতেই Vera C. Rubin Observatory-র গুরুত্ব স্পষ্ট হয়। অত্যাধুনিক পর্যবেক্ষণযন্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ আকাশ-পর্যবেক্ষণ তথ্য বিশ্লেষণের ক্ষমতা নিয়ে এই মানমন্দির সম্প্রতি কাজ শুরু করেছে। এর পর্যবেক্ষণ থেকে সংগৃহীত তথ্যের মধ্যে এমন বস্তুর সন্ধান পাওয়া সম্ভব হচ্ছে, যেগুলো আগের অনুসন্ধানে শনাক্ত করা কঠিন ছিল। 2026 ED138-এর আবিষ্কার দেখিয়েছে, শুধু নতুন কোনো টেলিস্কোপ তৈরি করাই যথেষ্ট নয়; সেই টেলিস্কোপের তথ্যকে কার্যকরভাবে বিশ্লেষণ করার জন্য উন্নত কম্পিউটার পদ্ধতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
Rubin Observatory-র পরিকল্পিত দশ বছরের পর্যবেক্ষণ কর্মসূচি এই আবিষ্কারের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে মানমন্দিরটি সমগ্র দক্ষিণ আকাশ বারবার পর্যবেক্ষণ করবে। একই আকাশের অঞ্চল বিভিন্ন সময়ে পর্যবেক্ষণ করার ফলে দূরবর্তী বস্তুর অবস্থানগত পরিবর্তন শনাক্ত করা এবং তাদের গতিপথ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা সহজ হবে। আগে যেসব অঞ্চল বা বস্তু পর্যবেক্ষণের সীমাবদ্ধতার কারণে অনুসন্ধানের বাইরে থেকে গিয়েছিল, সেগুলোর সন্ধান পাওয়ার সুযোগও বাড়বে। Matthew Holman-এর বক্তব্য অনুযায়ী, আগে বাদ পড়ে যাওয়া অঞ্চলগুলোতে লুকিয়ে থাকা আরও মহাজাগতিক বস্তু শনাক্ত করার সুযোগ এখন তৈরি হয়েছে।
তবে 2026 ED138-কে সৌরজগতের ষষ্ঠ বামন গ্রহ হিসেবে ঘোষণা করার আগে আরও গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকি। Pluto, Ceres, Eris, Haumea এবং Makemake—এই পাঁচটি পরিচিত বামন গ্রহের সঙ্গে নতুন বস্তুটিকে যুক্ত করার জন্য তার ভৌত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে এর প্রকৃত আকার এবং নিজস্ব মহাকর্ষীয় আকর্ষণে গোলাকার আকৃতি ধারণ করার ক্ষমতা সম্পর্কে পর্যাপ্ত প্রমাণ সংগ্রহ করতে হবে। বর্তমান পর্যবেক্ষণ বস্তুটির অস্তিত্ব, অবস্থান এবং সম্ভাব্য আকার সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে, কিন্তু তার চূড়ান্ত শ্রেণিবিন্যাস এখনও নির্ধারিত হয়নি।
এই আবিষ্কার তাই আপাতত একটি নতুন বামন গ্রহ পাওয়ার চেয়েও বড় একটি বৈজ্ঞানিক বার্তা বহন করছে। সৌরজগতের যে অঞ্চলকে আমরা বহুদিন ধরে দূরবর্তী ও প্রায় অজানা বলে মনে করেছি, সেখানে এখনও অনেক অনুসন্ধানের সুযোগ রয়েছে। আগামী দশ বছরে Rubin Observatory-র ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ সেই অজানা অঞ্চল সম্পর্কে আমাদের ধারণা বদলে দিতে পারে। 2026 ED138 শেষ পর্যন্ত বামন গ্রহের স্বীকৃতি পাবে কি না, তার উত্তর ভবিষ্যতের পর্যবেক্ষণ দেবে। কিন্তু এই অনুসন্ধান ইতিমধ্যেই দেখিয়ে দিয়েছে, সৌরজগতের পরিচিত সীমানার বাইরেও নতুন আবিষ্কারের জন্য অপেক্ষা করছে বহু প্রশ্ন—আর সেগুলোর উত্তর খুঁজতে বিজ্ঞানীদের হাতে এখন আরও শক্তিশালী পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের সুযোগ রয়েছে।
তথ্যসূত্র: Vera C. Rubin Observatory/NSF NOIRLab, Scientific American, ২০২৬।